লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহিল আলিয়্যিল আযীম আরবি: অ

  • click to rate

    ভূমিকা

    ইসলামে দোয়া ও যিকির মুমিনের জীবনে শক্তি ও প্রশান্তির প্রধান উৎস। বিপদ, দুশ্চিন্তা কিংবা অসহায় মুহূর্তে আল্লাহর স্মরণ মানুষকে মানসিক দৃঢ়তা দেয়। তেমনই এক মহান যিকির হলো লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহিল আলিয়্যিল আযীম আরবি। এই বাক্যটি মানুষের সীমাবদ্ধতা স্বীকার করে আল্লাহর সর্বশক্তিময়তার ওপর পূর্ণ নির্ভরতার ঘোষণা দেয়, যা ঈমানকে সুদৃঢ় করে।

    বাক্যটির অর্থ ও ব্যাখ্যা

    শব্দগত অর্থ

    “লা হাওলা” অর্থ—কোনো পরিবর্তনের শক্তি নেই, আর “ওয়ালা কুওয়াতা” অর্থ—কোনো ক্ষমতাও নেই। “ইল্লা বিল্লাহ” দ্বারা বোঝায়—আল্লাহ ছাড়া। সব মিলিয়ে এর অর্থ দাঁড়ায়: আল্লাহ ছাড়া কোনো শক্তি ও ক্ষমতা নেই।

    ভাবার্থ

    এই যিকির মানুষকে অহংকার থেকে দূরে রাখে এবং তাওয়াক্কুল শিক্ষা দেয়। জীবনের সব সাফল্য ও ব্যর্থতা আল্লাহর ইচ্ছার অধীন—এই উপলব্ধি হৃদয়ে স্থায়ী করে।

    কুরআন ও হাদিসে ফজিলত

    জান্নাতের ধনভাণ্ডার

    হাদিসে এসেছে, এই যিকির জান্নাতের ধনভাণ্ডারের একটি ধন। এটি মুখে উচ্চারণের পাশাপাশি অন্তরে বিশ্বাস স্থাপন করলে এর ফজিলত বহুগুণে বৃদ্ধি পায়।

    দুশ্চিন্তা দূরীকরণে ভূমিকা

    নিয়মিত এই যিকির পাঠ করলে অন্তরে প্রশান্তি আসে, হতাশা কমে এবং সংকট মোকাবিলায় মানসিক শক্তি জন্মায়। আলেমদের মতে, এটি অন্তরের ভার লাঘব করে।

    দৈনন্দিন জীবনে আমলের গুরুত্ব

    বিপদ ও সংকটের সময়

    মানুষ যখন সমস্যায় পড়ে এবং সমাধানের পথ খুঁজে পায় না, তখন এই যিকির তাকে আল্লাহর দিকে ফিরিয়ে আনে। এই প্রেক্ষাপটে লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহিল আলিয়্যিল আযীম আরবি পাঠ করা অন্তরে ধৈর্য ও ভরসা সৃষ্টি করে।

    নামাজ ও ইবাদতের সাথে সম্পর্ক

    ফরজ নামাজের পর, সকাল-সন্ধ্যার যিকিরে এবং কোনো গুরুত্বপূর্ণ কাজ শুরুর আগে এই বাক্যটি পাঠ করা সুন্নতসম্মত আমল হিসেবে বিবেচিত। এতে কাজে বরকত আসে।

    মানসিক ও আত্মিক উপকারিতা

    আত্মসমর্পণের শিক্ষা

    এই যিকির মানুষকে শেখায় যে, চেষ্টা করা মানুষের দায়িত্ব; ফল আল্লাহর হাতে। এই বিশ্বাস মানসিক চাপ কমায় এবং অন্তরে স্থিরতা আনে।

    ঈমান দৃঢ়করণ

    নিয়মিত পাঠে ঈমান মজবুত হয় এবং আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা বৃদ্ধি পায়। ফলে গুনাহ থেকে দূরে থাকার প্রবণতা বাড়ে।

    আমলের পদ্ধতি

    কীভাবে পাঠ করবেন

    যেকোনো সময় এই যিকির পাঠ করা যায়। তবে একাগ্রতার সঙ্গে অর্থ অনুধাবন করে পড়লে ফল বেশি পাওয়া যায়। নির্দিষ্ট সংখ্যা নির্ধারণ করে দৈনিক আমল করা উত্তম।

    অভ্যাস গড়ে তোলা

    ধীরে ধীরে অভ্যাসে পরিণত করলে এই যিকির জীবনের অংশ হয়ে যায়। তখন সংকটের মুহূর্তে এটি স্বতঃস্ফূর্তভাবে অন্তর থেকে উচ্চারিত হয়। এইভাবে লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহিল আলিয়্যিল আযীম আরবি মুমিনের আত্মিক শক্তির উৎসে পরিণত হয়।

    উপসংহার

    সবশেষে বলা যায়, এই মহান যিকির কেবল শব্দের সমষ্টি নয়; বরং এটি একটি জীবনদর্শন। আল্লাহর ওপর পূর্ণ নির্ভরতা, ধৈর্য ও আত্মসমর্পণের শিক্ষা এতে নিহিত। নিয়মিত আমলের মাধ্যমে এটি মুমিনের জীবনে শান্তি, স্থিরতা ও ঈমানি দৃঢ়তা এনে দেয়। তাই প্রতিদিনের জীবনে এই যিকিরকে স্থান দেওয়া অত্যন্ত কল্যাণকর, কারণ লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহিল আলিয়্যিল আযীম আরবি আমাদেরকে আল্লাহর শক্তির প্রতি অবিচল বিশ্বাসে দৃঢ় করে।